রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট কিছুটা স্থিতিশীলতায় ফেরার পর বিশ্ববাজারে গমের দাম আগের তুলনায় নিম্নমুখী হয়ে এসেছে। তবে দেশে এখনো আগের মতো ঊর্ধ্বমুখী দামে পণ্যটি বেচাকেনা হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে সরকারি ও মুষ্টিমেয় কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গম ব্যবসায় যুক্ত থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম সমন্বয় হচ্ছে না।
দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে প্রায় একই দামে বেচাকেনা হলেও বিশ্ববাজারের পরিপ্রেক্ষিতে দামের আশানুরূপ সমন্বয় হয়নি। বর্তমানে রাশিয়াসহ পূর্ব ইউরোপ অথবা ভারত থেকে আমদানি হওয়া প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) গম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩১০ থেকে ১ হাজার ৩১৫ টাকায়। এছাড়া কানাডা থেকে আমদানি হওয়া কিছুটা ভালোমানের গম লেনদেন হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪২০ টাকায়।
বিশ্বব্যাংকের ভোগ্যপণ্যসংক্রান্ত পিংকশিট প্রতিবেদনের এপ্রিল সংখ্যা থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও সেটি দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। মার্চে বিশ্ববাজারে গড়ে প্রতি টন গমের মানভেদে দাম ছিল ২২৭ ডলার ৫০ সেন্ট ও ২৫৪ ডলার ৪০ সেন্ট। ফেব্রুয়ারি একই মানের গমের টনপ্রতি বুকিং দাম ছিল যথাক্রমে ২৪৩ ডলার ৫০ সেন্ট ও ২৬৪ ডলার ৬০ সেন্ট।
এদিকে দীর্ঘদিন গমের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আটা-ময়দার বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদর প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা ও প্যাকেট আটা বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৩৮-৪৫ ও ৪৮-৫৫ টাকায়। অন্যদিকে খোলা ও প্যাকেট ময়দা বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে কেজিপ্রতি ৫০-৬০ ও ৬০-৭০ টাকায়। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ‘গমের পাইকারি দর না কমায় আটা-ময়দার বাজারও ঊর্ধ্বমুখী।’
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. রায়হানুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে গমের বাজারের আধিপত্য মুষ্টিমেয় কয়েকটি কোম্পানির হাতে। সরকারি আমদানির পাশাপাশি বড় করপোরেট কয়েকটি কোম্পানি গম আমদানির সঙ্গে যুক্ত। ফলে পণ্যটির দাম বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে তার প্রভাব পড়ে না।’
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোজ্যতেল, চিনি, ও চালসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির পর সরকারিভাবে তদাকরি করা হলেও গমের ক্ষেত্রে সে উদ্যোগ তেমনভাবে নেয়া হয়নি। তাছাড়া মুষ্টিমেয় কয়েকটি শিল্প গ্রুপ দেশে গম আমদানির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দামের ওঠানামাও হয় খুব কম। সরকারিভাবে গমের বাজার মনিটরিং করা হলে বর্তমান বৈশ্বিক দামের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কম দামে আটা-ময়দা ক্রয়-বিক্রয় সম্ভব।
বিশ্বে মোট গম উৎপাদনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের উল্লেখযোগ্য হিস্যা রয়েছে। এ দুই দেশের যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে গমের দাম রেকর্ড বেড়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পদক্ষেপে শস্য রফতানির ক্ষেত্রে রাশিয়া-ইউক্রেনের সমঝোতার কারণে গমের দাম কমে আসে।